আমরা জানি ভারতীয় সংসৃকতিতে কার্তিক ঠাকুরের বাহন ময়ূর ও ভগবান বিষ্ণুর বাহন গরুড়কে শ্রেষ্ঠ পাখি হিসাবে এবং তন্ত্রমতে তান্ত্রিক শক্তিসম্পন্ন বলে মনে করা হয়৷ এর সৌন্দর্যের কোনও তুলনা হয় না৷ তন্ত্র আচার্যগণ জন কল্যাণের জন্য এর অনেক তান্ত্রিক প্রয়োগের বর্ণনা করেছেন৷ এই পাখিদুটিকে সাপের জন্মগত শত্রু বলা হয় ও যেখানে
এদের বাস হয়, সেখানে সাপ ভুলেও যায় না৷ সর্পদংশন থেকে সুরক্ষা পাবার জন্য ময়ূর পাখিটি সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসাবে ধরা হয়েছে৷ জঙ্গলে থাকা মুনি-ঋষিরা, মহাত্মারা নিজেদের আশ্রমে আগে ময়ূর পালন করতেন৷ এই পাখিটিকে প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসাবে গণ্য করা হয়৷
ময়ূরের তন্ত্র (টোটকা)
ময়ূর ভারতের রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় পাখি হিসাবে গণ্য করা হয়৷ কিন্তু প্রাচীনকাল থেকে এই পাখিটি শিল্পের ক্ষেত্রে সৌন্দর্য ও নৃত্যের জন্য প্রসংশনীয় হয়ে উঠেছে৷ প্রাচীন কেল্লা, মিনার ও রাজমহলে বিশেষ করে কুঁয়োতে ময়ূরের চিত্র পাথরে পাথরে খোদাই করা দেখা যায়৷ শিল্পের সাথে এটি তন্ত্রতেও সমান ভাবে নিজের স্থান করে নিয়েছে৷
আকর্ষক ব্যক্তিত্বের জন্য তন্ত্র
রবি পুষ্যা যোগে ময়ূরের (মৃত ময়ূর) মুখ নিয়ে তাতে জলপাইয়ের বীজ দিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলুন৷ এতে গাছ হয়ে যখন ফল আসতে শুরু করবে তখন এর বীজ নিয়ে ত্রিলোহের তাবিজে ভরে ডান হাতে ধারণ করলে ব্যক্তির সৌন্দর্য ময়ূরের সমান সুন্দর হয়ে যায়
সম্মোহনকারক তন্ত্র (টোটকা)
ময়ূরের (পুরুষ) মাথায় উৎপন্ন ঝুঁটিকে কোনও শুভ মুহূর্তে ধূপ-দীপ দিয়ে পাগড়ি অথবা টুপিতে ধারণ করলে অথবা রেশমি বস্ত্রতে সুরক্ষিত ভাবে রেখে দিলে (না ভেঙে) বা পকেটে রেখে দিলে সম্মোহন খুব সহজেই করা যায়৷
রক্ষাত্মক কবচ
ময়ূরের হাড় শিশুর গলায় তাবিজ বানিয়ে কালো কাপড়ে বেঁধে দিলে শিশুরা সমস্ত ধরনের কুনজর, কুপ্রভাব ও টোনা-টোটকা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে৷ তবে এই প্রয়োগটি রবিবারে করুন৷ রবি পুষ্যা যোগে অথবা মঙ্গলবারে এই টোটকাটি করলে বেশি প্রভাবশালী হয়৷
ময়ূরের কিছু তান্ত্রিক প্রয়োগ
লাল চন্দন অথবা কেশর দিয়ে কালি তৈরীি করে ময়ূরের ঠোঁট দ্বারা অঙ্কন করে পঞ্চদশী যন্ত্রম অঙ্কন করুন৷ এরপর ধূপ দিয়ে ভূজ্যপত্রের টুকরো সেই ঠোঁটেই মুড়িয়ে দিন৷ আবার ধূপ দিয়ে লাল রেশমি কাপড়ে মুড়িয়ে নিজের কাছে রাখুন৷ রবি পূষ্য যোগে তৈরীি করা এই যন্ত্রমটি ধারণ করলে ব্যক্তি সমৃদ্ধিশালী হয়ে যায়৷
ময়ূরের অস্থিখণ্ড ভূজ্যপত্রে মুড়িয়ে নিয়ে তাবিজে রেখে শিশুকে পরিয়ে দিলে নজর, টোনা-টোটকা ইত্যাদি রক্ষাত্মক কবচ হিসাবে কাজ করে৷
বাড়িতে ময়ূর পালন করলে কোনও প্রকারের সাপ বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে না৷ ময়ূর বাড়িতে থাকলে মা লক্ষ্মীর স্থায়ী বাস হয়ে শ্রীবৃদ্ধি হতে থাকে৷
ময়ূরের ঝুঁটিকে না ভেঙে কোনও শুভ যোগে প্রাপ্ত করে নিজের কাছে রেখে দিলে যথেষ্ট সম্মোহন শক্তির অধিকারী হওয়া যায়৷ সেই ব্যক্তি মান-সম্মান পাবার সাথে-সাথে সম্মোহন শক্তির অধিকারী হয়ে থাকে৷
ময়ূরের পালককে পুস্তক ও ধার্মিক গ্রন্থে রেখে দিলে বিদ্যা,মান-সম্মান ও মা সরস্বতীর কৃপা লাভ করা যায়৷ কিন্তু মনে রাখতে যে, সদ্য মরে যাওয়া ময়ূরের অঙ্গ অথবা নিজ থেকে পরে যাওয়া ময়ূরের পালক ব্যবহার করতে হবে৷ জীবিত পাখিকে মেরে তন্ত্রের প্রয়োগ করা অনুচিত৷