প্রাচীন কিছু প্রভাবী টোটকা / Some Influential Ancient Totka

এই প্রবন্ধে আমি কিছু প্রাচীন এবং প্রভাবী টোটকার বিষয়ে  আলোচনা করতে চলেছি, যেগুলির ব্যবহার   কিনা আজকাল সমাজে খুব বেশি দেখা যায় না। তবে এগুলি প্রভাবী টোটকা এতে সন্দেহ নেই। আমি শুধুমাত্র আমার এই ব্লগে তথ্যমূলক বা শিক্ষামূলক বিষয় হিসাবে এগুলির আলোচনা করছি। শিশু প্রায়ই অসুস্থ হলে, শিশুর দুগ্ধপানের কি সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন,বারবার গর্ভপাত হতে থাকলে কি রকম তান্ত্রিক টোটকা অনুসরণ করা উচিত বা প্রথমবার গর্ভপাত হলে ঠিক কি করলে তান্ত্রিক টোটকা করা যেতে পারে,এ সবই এই প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয়। প্রবন্ধটি পড়ে আপনার ভালো লাগলে সংগ্রাহক হিসাবে  যথেষ্ট খুশি হব।

প্রায়ই অসুস্থ হলে

যদি আপনার শিশু সর্বদা কোনও রোগে পীড়িত থাকে ও ঔষধপত্র খাইয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না তাহলে আপনি নিম্ন ক্রিয়াটি করুন৷ মঙ্গলবার দিন অষ্টধাতুর বালা বানান৷ শনিবারে সেই বালাটি বাড়িতে নিয়ে আসুন৷ গঙ্গা জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুদ্ধ করে নিন৷ এরপর বালার একদিকে সিঁদুর লাগিয়ে দিন৷ সময় থাকলে হনুমান চালিসার পাঠ করে নিন৷ এরপর বালাটি সোজা শিশুর হাতে পরিয়ে দিন৷ আপনি শিশু যে সুস্থ হয়ে উঠছে তা আপনি নিজেই অনুভব করবেন৷

দুগ্দপানে সাবধানতা

প্রায়ই আমাদের মা বোনেদের শিশুর লালন-পালন কীভাবে করবেন সেই বিষয়ে কোনও রকম প্রারম্ভিক শিক্ষা দেওয়া হয় না, তবুও তারা শিশুদের লালন-পালনে কোনও ত্রুটি রাখেন না৷ এমন কিছু ত্রুটি আছে যেটা মা বোনেদের মধ্যে প্রায়ই করতে দেখি৷ যদি ওই ত্রুটিগুলো শুধরে নেওয়া যায় তাহলে শিশু স্বাস্থ্যবান ও নীরোগ থাকবে৷

দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদের আঁচলে লুকিয়ে রাখুন৷ দুধের পাত্রটিও লুকিয়ে রাখুন৷ যদি সম্ভব হয় তবে দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর দিকে স্নেহময় নজরে বার বার তাকান৷ এভাবে দুধ খাওয়ালে শিশুর মনে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে ও আপনার স্নেহের নজর তার মাংশপেশী ও হাড়কে শক্তিশালী করবে৷ মহাভারতে এমনি এক দৃষ্টান্ত রয়েছে৷

দুর্যোধন শারীরিক দৃষ্টিতে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলেন৷ এই বিষয়ে বলা হয়— একবার দুর্যোধনের মা গান্ধারী স্নেহবশে দুর্যোধনকে বললেন—‘দুর্যোধন! আমি তোমার শরীরে আমার স্নেহময় দৃষ্টি দেব৷ যেখানে যেখানে আমার দৃষ্টি পরবে তোমার শরীরের সেই স্থান বজ্রের মতো কঠোর হয়ে যাবে৷’

দুর্যোধন সমস্ত বস্ত্র খুলে ফেললেন, যখন গান্ধারী চোখের বাঁধন খুলে দেখলো দুর্যোধন তার নিতম্বের স্থান কলা পাতা দিয়ে ঢেকে রেখেছে৷

গান্ধারী অসন্তোষের সাথে জিজ্ঞাসা করলেন—‘পুত্র! এসব কি৷’

দুর্যোধন বললেন—‘মাতাশ্রী! লজ্জাবশতঃ আমি এটা করেছি৷’

‘পুত্র! মায়ের কাছে কিসের লজ্জা?’ গান্ধারী জিজ্ঞাসা করলেন৷

দুর্যোধন চুপ করে গেলেন৷ পরবর্তীকালে দেখা গেল শরীরের ওই জায়গাতেই ভীম গদার সাহায্যে দুর্যোধনকে শেষ করেছিল৷

ভালো মায়ের স্নেহময় নজর কবজের সমান হয়৷ এই কবজটি প্রাপ্ত করার সঠিক সময় হল দুগ্দপান করানোর সময় হয়৷

মা-বোনেরা নিজেরা শুয়ে শুয়ে কখনো দুধ খাওয়াবেন না৷ এতে শিশুদের মধ্যে নানা প্রকারের কানের রোগ দেখা যায়৷ যদি মায়েরা এই কথাটি মনে রাখেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার সন্তানকে বলিষ্ঠ, নীরোগ ও আত্মবিশ্বাসী করতে পারবেন৷

বার বার গর্ভপাত হলে

বার-বার গর্ভপাত হওয়া ভালো লক্ষণ নয়৷ এই পরিস্থিতিতে তাড়াতাড়ি ও সঠিক চিকিৎসা করা উচিত৷ এখানে আমি ঔষধ ও অনুভূত টোটকা বলতে চলেছি৷ প্রয়োগ করলে অবশ্যই ফলাফল পাবেন৷

যষ্টিমধু, আমলা ও শতমূলীকে কেটে এগুলিকে একত্র করে ভালো করে পিষে একটি পরিষ্কার কাপড়ে ছেঁকে নিন৷ এরপর এই ঔষধটির সেবন রবিবার থেকে শুরু করুন৷ এই ঔষধটি গরুর দুধের সাথে সেবন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়৷ মাত্রাটি প্রায় ৬ গ্রামের মত৷

মঙ্গলবার দিন লাল কাপড় নিয়ে নিন, এতে অল্প পরিমাণে সন্ধব নুন নিয়ে বেঁধে নিন৷ এরপর হনুমান মন্দিরে গিয়ে এই কাপড়ের পুঁটলিটি হনুমানজির চরণে স্পর্শ করান৷ ফিরে এসে গর্ভস্থ স্ত্রীর পেটে বেঁধে দিন৷ গর্ভপাত শীঘ্রই বন্ধ হয়ে যাবে৷

প্রথম বার গর্ভপাত হলে – এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র শুক্রবার দিন কুমোরের বাড়িতে যান ও তার হাত থেকে মাটি নিয়ে আসুন৷ এরপর এই মাটিতে অল্প মাত্রায় মধু ও ছাগলের দুধ মিশিয়ে গর্ভস্থ স্ত্রীকে খাওয়ান৷ আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি এতে গর্ভপাতের আশঙ্কা প্রায় থাকেই না৷ এই ক্রিয়াটি করার আগে কুমোরের সম্মতি নিয়ে নেবেন নচেৎ ফল না পাবার আশঙ্কা থেকে যায়৷

You may also like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *