আজকের যুগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল অর্থ সঞ্চয় করা৷ আমি নিয়মের শুরু অর্থ প্রাপ্তি থেকে করতে চাইছি৷ অর্থ প্রাপ্তির নিয়ম বলার সঙ্গে-সঙ্গে কিছু বিশেষ কথা বলতে চলেছি৷ যেই স্থানে এই নিয়মগুলি করা হয় সেই স্থানে মা লক্ষ্মীর স্থায়ী বাস হয়ে থাকে৷
সর্বপ্রথম আপনাকে এমন কিছু নিয়ম বলতে চলেছি যেটা সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য করা হয়৷ এমন কিছু নিয়মও আছে যার সম্বন্ধে আপনি কিছু-কিছু জানেন কিন্তু এটা জানেন না যে, এর দ্বারা কি কি লাভ প্রাপ্ত হতে পারে৷
l যে বাড়িতে নিয়মিতভাবে বা প্রত্যেক শুক্রবার শ্রীসুক্ত অথবা শ্রী লক্ষ্মী সুক্ত পাঠ করা হয়, সেখানে মা লক্ষ্মীর স্থায়ী বাস হয়ে থাকে৷
l প্রত্যেক সপ্তাহে বাড়ির মেঝে পরিষ্কার করবার সময় অল্প পরিমাণে সামুদ্রিক নুন অবশ্যই জলে মিশিয়ে নিন৷ এতে বাড়িতে ঝগড়া-কলহ নিমেষেই শেষ হয়ে যায়৷ এছাড়া অতিরিক্ত সুবিধা হিসাবে এই লাভটি হবে যে, আপনি হয়ত জানেন না আপনার বাড়িতে অতিথি কোনও স্থান থেকে এসেছে বা তার মনে আপনার প্রতি কি চিন্তাধারা রয়েছে৷ নুন মেশানো যুক্ত জল দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করলে সম্পূর্ণ নেতিবাচক শক্তিগুলি শেষ হয়ে যায়৷
l সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রধান দরজায় একটি গ্লাস বা ঘটি দিয়ে জল ঢাললে মা লক্ষ্মীর আসার পথ প্রশস্ত হয়ে যায়৷
l যদি আপনি চান যে, বাড়িতে সুখ-শান্তির পরিবেশ সর্বদা বজায় থাকুক ও আর্থিকভাবে ভালোভাবে কাটাতে পারেন তাহলে প্রত্যেক অমাবস্যায় বাড়ি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করুন৷ বাড়িতে যত অব্যবহারকারী বস্তু একজায়গায় করে কাউকে বিক্রি করুন বা বাইরে ফেলে দিন৷ পরিষ্কারের পর পাঁচটি ধূপকাঠি বাড়ির মন্দিরে লাগান৷
l যদি আপনি প্রত্যেক পূর্ণিমাতে হবন করতে পারেন তাহলে অনেকটাই শুভ হবে৷ এর জন্য আপনি যদি কোনও মন্ত্র না জানেন তাহলে গোবরের উপর আগুন জ্বালিয়ে ‘ওঁ’মন্ত্রটি উচ্চারণ করে ১০৮ বার আহুতি দিন৷ এটি আপনাকে পূর্ণ ধার্মিক চিন্তাধারার ভাবনা প্রকাশ করে৷
l মাসে দুবার কোনও দিন গোবরের উপর গন্ধযুক্ত গাছের আগাছা রেখে এর ধুয়োটি সম্পূর্ণ ঘরে প্রদক্ষিন করান৷
l যদি আপনার পুজোর সময়ে কোনও অতিথি বাড়িতে আসে, তাহলে এতে শুভ হয়৷ এই সময়ে অথিতিকে জলখাবার অবশ্যই দেবেন৷ যদি সান্ধ্য পুজোর সময় কোনও বিবাহিতা মহিলা বাড়িতে আসে তাহলে আপনি খুবই ভাগ্যবান৷ আপনি ধরে নিন যে আপনার বাড়িতে মা লক্ষ্মীর আগমন হয়েছে৷
l আপনি যখনই বাড়ি ফিরে আসছেন কখনও খালি হাতে আসবেন না৷ যদি আপনি বাজার থেকে কিছু আনতে পারছেন না, তাহলে রাস্তা থেকে একটি কাগজের টুকরো তুলে নিয়ে আসুন৷
l আপনারপুজোর সময়ে কোনও শিশু যদি কাঁদতে থাকে তাহলে এটি আপনার জন্য শুভ মুহূর্ত নয়৷ এরজন্য কোনও জ্ঞানী ব্যক্তির কাছ থেকে জানুন যে এর কি কারণ হতে পারে? এর সাধারণ কারণ এটা হতে পারে যে আপনার বাড়িতে নেতিবাচক শক্তি কিছু রয়েছে৷
l আপনার বাড়িতে পূর্ব ও দক্ষিণ কোণে যদি ভুলবশতঃ কোনও জলের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী অনেকটাই ক্ষতিকর৷ এইজন্য ২৪ ঘন্টা সেই স্থানে একটি লাল বাল্ব জ্বালিয়ে রাখুন৷ সন্ধ্যাবেলায় সেই স্থানে একটি প্রদীপ অবশ্যই জ্বালান৷
l বাড়িতে নুন কখনও খোলা পাত্রে রাখবেন না৷
l বাড়িতে যতগুলি দরজা রয়েছে, এগুলিতে মাঝে-মাঝে তেল অবশ্যই দিতে থাকুন৷ এর থেকে কোনও ধরনের শব্দ আসা উচিত নয়৷
l কোনও দিন যদি বাড়িতে শিশু সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছু খেতে চায় অথবা বিনা কারণে কাঁদতে থাকে তাহলে বাড়ির প্রত্যেক সদস্যকে সাবধান থাকতে হবে কারণ এটি একটি অশুভ লক্ষণ৷
l কখনও কাউকে ভিক্ষা দেবার সময় তাকে বাড়ির ভিতরে আসতে দেবেন না৷ ভিক্ষা বাড়ির ভিতর থেকে করুন৷
l যদি নিয়মিত ভাবে বাড়ির প্রথম রুটি গরুকে ও শেষ রুটি কুকুরকে খাওয়ান তাহলে আপনার ভাগ্যের সিঁড়ি খুলতে বেশি সময় লাগবে না৷
l আপনি নিজের বাড়িতে কিছু কাঁচা স্থান অবশ্যই রাখুন৷ যদি সম্ভব হয় তাহলে বাড়ির মাঝখানে রাখুন,যদি সেখানে তুলসী চারাগাছ লাগান তাহলে সমস্ত কার্য সফলতাপূর্বক হবে৷
l আপনি বৃহস্পতিবারে কলাগাছে জল অর্পণ করুন ও ঘি-এর প্রদীপ জ্বালান৷ শনিবারে অশ্বত্থ গাছে গুড়, দুধ মিশ্রিত মিষ্টি জল ও সরষের তেলের প্রদীপ দিতে পারেন তাহলে কোনওদিন আর্থিক অনটন থাকবে না৷
l আর্থিক সম্পন্নতার জন্য আপনি নিয়ম করে নিন যে প্রতিদিন কোনও অশ্বত্থ গাছে জল অবশ্যই দেবেন৷
আর্থিক সমৃদ্ধির নিয়ম
এবার আমি আপনাকে কিছু এমন নিয়ম নিয়ে বলতে চলেছি, যে নিয়ম করলে আপনি বিপদ থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন৷
l আপনি নিজের ব্যস্ত জীবনে যদি শ্রীযন্ত্রের সামনে নিয়মিত ভাবে অথবা প্রত্যেক শুক্রবারে শ্রীসুক্ত ও বীজযুক্ত লক্ষ্মী সুক্ত পাঠ করতে পারেন তাহলে কখনও আর্থিক সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না৷ এর প্রভাব আপনি স্পষ্টভাবে সাতটি শুক্রবার করার পর থেকেই বুঝতে পারবেন৷